ঢাকা থেকে দুশো কিলো দূর থেকে উঠে এসেই আমার মন বসছিল না বিইউপিতে। মাঝে মধ্যে মনে হইত আমি হয়ত এই পরিবেশের জন্য ফিট না। অথবা, বিইউপি আমার জন্যই না। আমি ঠিক ছিলাম। আসলেই বিইউপি আমার জন্যই না। তবে, যদি আমার ভার্সিটির সময় নিয়ে কথা বলতে হয়, আমার কথা কখনোই শেষ হয় না। এই নিষ্প্রাণ একটা জায়গা নিয়ে এত কথা বলার সূত্রপাত উনিশ সালের নভেম্বরেই। চৌদ্দ তারিখেই।
নভেম্বরের আগে পর্যন্ত বিইউপিতে বলার মত কোনো গল্প আমার কাছে ছিল না। না ছিল বিশাল একটা সার্কেল, না ছিল ডিপার্টমেন্টের বাইরে খুব বেশি বন্ধু/সিনিয়র। তখনই আবার বুঝতে পারলাম একাউন্টিং পড়া আমার জন্য না। তো সব মিলেমিশে এক অপরূপ হতাশার জন্ম নিচ্ছিলো বা নিবে খুব তাড়াতাড়ি এরকম।
গান বাজনা ভাললাগত, এসব নিয়ে সেসময়ে যারা কাজ করতেন বিইউপিতে তাদের মধ্যে একজন ছিলেন — Rahman Amiyo ভাই। জয়গুরু ভাই। একদিন খুবই র্যাণ্ডমলি। যমুনাতে একটা সোলো শো এর জন্য ভাই আমাকে বললেন। জানালেন একটা প্র্যাকটিস আসার জন্য — গার্লস কমনরুমে। আমি একটু খটকা নিয়েই আগাচ্ছিলাম। মনে হইতেছিল ভাই কি আমারে মাইর খাওয়ানোর লাইন করসে কিনা। এইযে, আসলেই প্রচুর মাইর খাইসি। বলতেছি ক্যামনে।
গার্লস কমনরুমে ঢুকে দেখি ছেলেমেয়ে মিলে অসংখ্য মানুষ। একটা কিছুর জন্য প্র্যাকটিস করছে। আমি কিছু জানি না। বাট জিনিসটা আমার কাছে ভীষণ ইন্টারেস্টিং লাগলো। আমি অমিয় ভাইকে জানালাম, ভাই এইটাতে কাজ করতে আমি আগ্রহী। ভাই আমার পরিচয় করায় দিলেন Sabrina Sujana আপুর সাথে। তারপর থেকে প্রচ্চুর মাইর খাইসি আপার কাছে। তারপরে আস্তে আস্তে পরিচয় হইলো আস্তো একটা দুনিয়ার সাথে, একটা ক্লাবের সবার সাথে, যাদের অস্তিত্ব আমি জানতাম না অথচ তাদের অস্তিত্ব পরবর্তীকালে আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপুর্ন হয়ে উঠেছিল। তারা আমারে কাজ দিসে, গালি দিসে, মাইর দিসে, খাবার দিসে। সময় অসময় তাদের করো সাথে দেখা হইলে আবার কাজ দিসে, গালি দিসে, মাইর দিসে, খাবার দিসে। নেভার এন্ডিং লুপ।
পাঁচ বছর পরে লিখতেছি। অনেক সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম ঘটনা আমার মনে নেই। তবে যেগুলি মনে আছে, কখনও হয়ত ভুলতেও পারবো না। এইযে গলা ফাটায়ে গান গাওয়া, প্র্যাকটিসের নামে অমিয় ভাইয়ের সাথে ক্যালিফোর্নিয়া বাজানো, ফ্লোটিং ব্রিজে নাচা, ওইপাড়ে বনফায়ার, আর মাতলামির নাটক, ভিসি স্যারের প্রশংসা পাওয়া, জায়েদ স্যারের সাথে সময় কাটানো, সিয়াম ভাইয়ের লিঙ্কিনপার্ক কাভার করা, সফদার ভাইয়ের ক্লাসে ডেস্কের চিপায় ঘুমানো, বন্ধু সাদিয়ার সাথে "কিরে ফার্স্ট ইয়ার নাকি?" প্রাঙ্ক করা, ইনান ভাইয়ের সাথে সেরা সেরা কয়েকটা গান কাভার দেওয়া, তাজিম ভাইয়ের হানাদার হওয়া আর মুনকে ছুঁড়ে ফেলা, মোস্ট ইমপোর্টেন্টলি এত সেরা সেরা কিছু মানুষ পাওয়া আমার বিইউপি লাইফের ব্লেসিংস।
বিশ সালের নভেম্বর থেকেই একটা একটা করে ব্যাচ চলে যায়, মনের মধ্যে খচখচ করে। একেকজন একেক বছর বিইউপি ছেড়ে চলে যায়। সবাই সবার মত ব্যস্ত হয়ে গেছেন। আমি নিজেও গ্র্যাজুয়েশন করে ফেলেছি। তবে সময় অসময় আমাদের আগের কথা মনে পড়ে। ক্লাব—যেটা আমাদের ছিল, বিইউপি— যেটা আমাদের ছিল, সময়— যেটা আমাদের ছিল। আমি জুনিয়রদের ব্যাপারে জানি না। তবে মাঝে মধ্যে মনে করি, ওরা কি কখনও জানবে OG BUP কিরকম?
এট্যাচড ছবির প্রত্যেককে, যাদের দেখা যাচ্ছে, যাদেরকে দেখা যাচ্ছে না— সকলকে আমি প্রচণ্ড ভালবাসি, শ্রদ্ধা করি, মিস করি। হয়তো কোন একদিন আমরা বানাবো "জলপ্রহর: দ্যা রিইউনিয়ন"। সেদিনের অপেক্ষায়
নভেম্বরের আগে পর্যন্ত বিইউপিতে বলার মত কোনো গল্প আমার কাছে ছিল না। না ছিল বিশাল একটা সার্কেল, না ছিল ডিপার্টমেন্টের বাইরে খুব বেশি বন্ধু/সিনিয়র। তখনই আবার বুঝতে পারলাম একাউন্টিং পড়া আমার জন্য না। তো সব মিলেমিশে এক অপরূপ হতাশার জন্ম নিচ্ছিলো বা নিবে খুব তাড়াতাড়ি এরকম।
গান বাজনা ভাললাগত, এসব নিয়ে সেসময়ে যারা কাজ করতেন বিইউপিতে তাদের মধ্যে একজন ছিলেন — Rahman Amiyo ভাই। জয়গুরু ভাই। একদিন খুবই র্যাণ্ডমলি। যমুনাতে একটা সোলো শো এর জন্য ভাই আমাকে বললেন। জানালেন একটা প্র্যাকটিস আসার জন্য — গার্লস কমনরুমে। আমি একটু খটকা নিয়েই আগাচ্ছিলাম। মনে হইতেছিল ভাই কি আমারে মাইর খাওয়ানোর লাইন করসে কিনা। এইযে, আসলেই প্রচুর মাইর খাইসি। বলতেছি ক্যামনে।
গার্লস কমনরুমে ঢুকে দেখি ছেলেমেয়ে মিলে অসংখ্য মানুষ। একটা কিছুর জন্য প্র্যাকটিস করছে। আমি কিছু জানি না। বাট জিনিসটা আমার কাছে ভীষণ ইন্টারেস্টিং লাগলো। আমি অমিয় ভাইকে জানালাম, ভাই এইটাতে কাজ করতে আমি আগ্রহী। ভাই আমার পরিচয় করায় দিলেন Sabrina Sujana আপুর সাথে। তারপর থেকে প্রচ্চুর মাইর খাইসি আপার কাছে। তারপরে আস্তে আস্তে পরিচয় হইলো আস্তো একটা দুনিয়ার সাথে, একটা ক্লাবের সবার সাথে, যাদের অস্তিত্ব আমি জানতাম না অথচ তাদের অস্তিত্ব পরবর্তীকালে আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপুর্ন হয়ে উঠেছিল। তারা আমারে কাজ দিসে, গালি দিসে, মাইর দিসে, খাবার দিসে। সময় অসময় তাদের করো সাথে দেখা হইলে আবার কাজ দিসে, গালি দিসে, মাইর দিসে, খাবার দিসে। নেভার এন্ডিং লুপ।
পাঁচ বছর পরে লিখতেছি। অনেক সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম ঘটনা আমার মনে নেই। তবে যেগুলি মনে আছে, কখনও হয়ত ভুলতেও পারবো না। এইযে গলা ফাটায়ে গান গাওয়া, প্র্যাকটিসের নামে অমিয় ভাইয়ের সাথে ক্যালিফোর্নিয়া বাজানো, ফ্লোটিং ব্রিজে নাচা, ওইপাড়ে বনফায়ার, আর মাতলামির নাটক, ভিসি স্যারের প্রশংসা পাওয়া, জায়েদ স্যারের সাথে সময় কাটানো, সিয়াম ভাইয়ের লিঙ্কিনপার্ক কাভার করা, সফদার ভাইয়ের ক্লাসে ডেস্কের চিপায় ঘুমানো, বন্ধু সাদিয়ার সাথে "কিরে ফার্স্ট ইয়ার নাকি?" প্রাঙ্ক করা, ইনান ভাইয়ের সাথে সেরা সেরা কয়েকটা গান কাভার দেওয়া, তাজিম ভাইয়ের হানাদার হওয়া আর মুনকে ছুঁড়ে ফেলা, মোস্ট ইমপোর্টেন্টলি এত সেরা সেরা কিছু মানুষ পাওয়া আমার বিইউপি লাইফের ব্লেসিংস।
বিশ সালের নভেম্বর থেকেই একটা একটা করে ব্যাচ চলে যায়, মনের মধ্যে খচখচ করে। একেকজন একেক বছর বিইউপি ছেড়ে চলে যায়। সবাই সবার মত ব্যস্ত হয়ে গেছেন। আমি নিজেও গ্র্যাজুয়েশন করে ফেলেছি। তবে সময় অসময় আমাদের আগের কথা মনে পড়ে। ক্লাব—যেটা আমাদের ছিল, বিইউপি— যেটা আমাদের ছিল, সময়— যেটা আমাদের ছিল। আমি জুনিয়রদের ব্যাপারে জানি না। তবে মাঝে মধ্যে মনে করি, ওরা কি কখনও জানবে OG BUP কিরকম?
এট্যাচড ছবির প্রত্যেককে, যাদের দেখা যাচ্ছে, যাদেরকে দেখা যাচ্ছে না— সকলকে আমি প্রচণ্ড ভালবাসি, শ্রদ্ধা করি, মিস করি। হয়তো কোন একদিন আমরা বানাবো "জলপ্রহর: দ্যা রিইউনিয়ন"। সেদিনের অপেক্ষায়


Comments
Post a Comment