কন্সিকুয়েন্স

আমার বয়স যখন একদম কম, আমার কোনো ভয় ছিলো না। আমি কখনো ভয় পাই নি আধাঁরে, নির্জনতায়, নির্বাক থাকায়, আলোতে, কোলাহলে কিংবা মত প্রকাশে। নতুন কিছু খুঁজে গিয়েছি সবসময়। এই যে খোঁজ — দ্যা সার্চ, এটাই আমাকে চিনিয়েছে ভয়কে। আমি এখন ভয় পাই।


আমি কন্সিকিউয়েন্সে ভীষণ ভয়। একটু মাপ যোগ এদিক সেদিক হলেই গলায় ঝুলে যাবে রঙবেরঙে পরিনামের মালা। আগে ব্যাপারটা এমন ছিলো না। আমি কন্সিকুয়েন্স নিয়ে পরোয়া করতাম না, বয়স কম ছিলো ক্ষয়ক্ষতি ওই এক প্যাকেট চিপ্স — জুস বা একটা ক্রিকেট ব্যাট হইতো বলে খুব একটা মাথা ঘামানো আসলে তখন দরকার পড়ে নাই। আস্তে আস্তে আমি জেনেছি আমি হিসাব নিকাশে বেশ কাঁচা, এখন ব্যাপারটা ভাবতেও গায়ে কাঁটা দেয়। 


আমাকে অনেকটা ক্ষ্যাপাটে, আনফিল্টার্ড মনে হয় অনেকের। আমি ব্যাপারটা বুঝি। তবে আমি এটাও বুঝি যে আমি আসলে অনেক কিছু বলতে পারি না, করতে পারি না। ঐ—যে ভয় হয়৷ অথচ কথাগুলি বলতে না পারলে, কাজগুলি করতে না পারলে বুকের মধ্যে ফেটে যায়। মাঝে মধ্যে মনে হয়, জীবন যদি রিসার্স পেপার হয়, আমি তার লিমিটেশন।


আশায় বুক বাঁধে চাষা। সাগর তীরে লাঙ্গল চালায় যাচ্ছি। ফসল পাইতেসি?— না, সাগর বলেও দিসে "বোকাচোদা নাকি?"। তবে এখন হাল ছাড়তে ভয় হয়, মনে হয় আরেকটু হইলেই হয়ত একটা চারা জন্ম নিবে। কখনো হাল ছেড়ে দিলে আমার যে সাগরতীরে ফসল বোনা হইলো না সেই আক্ষেপেই মরে যাবো।

Comments

Popular Posts